টাকার প্রলোভনে নাবালকদের রক্ত! বয়স জালিয়াতির অভিযোগে তদন্তে পুলিশ

0
62

ডেটলাইন দুর্গাপুর,৫ আগস্টঃ টাকার প্রলোভন দেখিয়ে স্কুলপড়ুয়া নাবালকদের হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে রক্ত সংগ্রহ! এমনই বিস্ফোরক অভিযোগ ঘিরে তীব্র চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দুর্গাপুরে। অভিযোগ, দুর্গাপুরের ইস্পাতনগরীর একটি বেসরকারি স্কুলের তিন নাবালক পড়ুয়াকে টাকার টোপ দিয়ে বিধাননগরের একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে এক রোগীর আত্মীয় পরিচয় দিয়ে তাঁদের রক্তদান করানো হয়েছে বলে অভিযোগ। ঘটনার সবচেয়ে চাঞ্চল্যকর দিক হল, রক্ত সংগ্রহের সময় সরকারি নথিতেই নাবালকদের বয়স বদলে তাঁদের সাবালক হিসেবে দেখানো হয়েছিল বলে অভিযোগ উঠেছে। কীভাবে নাবালকদের বয়স সংক্রান্ত নথি বদলানো হল, কারা এর সঙ্গে যুক্ত এবং হাসপাতালের প্রক্রিয়ায় কারা সহযোগিতা করেছে—এই প্রশ্নগুলিই এখন তদন্তের কেন্দ্রবিন্দু। অভিযোগের নেপথ্যে ওই স্কুলেরই এক প্রাক্তন ছাত্রের নাম উঠে এসেছে। তবে তাঁর সঙ্গে আরও কেউ জড়িত কি না, কিংবা এর পিছনে বৃহত্তর কোনও সংঘবদ্ধ এজেন্ট চক্র কাজ করছে কি না, তা নিয়েও তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনার কথা জানাজানি হতেই নড়েচড়ে বসে স্কুল কর্তৃপক্ষ। অভিভাবকদের সঙ্গে নিয়ে দুর্গাপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়। স্কুলের প্রিন্সিপাল দেবযানী বোস বলেন, “বিষয়টি জানতে পারার পর আমরাই পুলিশকে জানিয়েছি। জানতে পেরেছি, এজেন্টের মাধ্যমে নাবালকদের শরীর থেকে রক্ত নেওয়া হচ্ছে। এটি অত্যন্ত গুরুতর এবং বড় ধরনের অপরাধ।” ঘটনায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অভিভাবকরাও। তাঁদের অভিযোগ, অর্থের প্রলোভন দেখিয়ে নাবালকদের রক্ত নেওয়ার ঘটনা কোনওভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। এই ঘটনার সঙ্গে যুক্ত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তাঁরা। ঘটনায় কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন রাজ্যের পুর ও নগর উন্নয়ন মন্ত্রী অগ্নিমিত্রা পাল। তিনি বলেন, “বিষয়টি আমাদের নজরে এসেছে। স্কুলের প্রিন্সিপালের সঙ্গেও আমি কথা বলছি। পুলিশকে জানানো হয়েছে। ছোট ছোট ছেলেদের টাকার লোভ দেখিয়ে রক্ত নেওয়া হচ্ছে। যারা এই জঘন্য অপরাধে জড়িত, তাদের বিরুদ্ধে কঠোরতম শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কাউকে রেয়াত করা হবে না।” অন্যদিকে, আসানসোল-দুর্গাপুর পুলিশ কমিশনার ড. প্রণব কুমার জানান, লিখিত অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু হয়েছে। ঘটনার সমস্ত দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।নাবালকদের রক্ত সংগ্রহের এই অভিযোগের পিছনে শুধুমাত্র কোনও ব্যক্তির ভূমিকা, নাকি এর সঙ্গে আরও বড় কোনও চক্র জড়িয়ে রয়েছে—এখন তদন্তে সেই উত্তরই খুঁজছে পুলিশ। পাশাপাশি, নাবালকদের বয়স পরিবর্তনের অভিযোগের সত্যতা এবং হাসপাতালে রক্ত সংগ্রহের পুরো প্রক্রিয়াটিও তদন্তের আওতায় রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here