ডেটলাইন ওয়েব ডেস্কঃ বাংলায় পৌষ সংক্রান্তি। তামিলনাড়ুতে ‘পোঙ্গল’। কর্ণাটকে ‘মকর সংক্রমনা’ বা ‘ইল্লু বিল্লা’। অন্ধ্রে আর কেরলে মকর সংক্রান্তি।রাজস্থান ও গুজরাতে ‘উত্তরায়ণ’।মহারাষ্ট্রে ‘তিলগুল’।মধ্যপ্রদেশে সুকরাত।কাশ্মীরে শায়েন-ক্রাত। পঞ্জাব, হরিয়ানা, হিমাচল, জম্মুতে ‘লোহরি’ বা ‘মাঘী’।বিহার, উত্তরপ্রদেশ ও ঝাড়খণ্ডের বিভিন্ন জায়গায় ‘খিচড়ি পরব’। আসামে ‘ভোগালি বিহু’। দেশ জুড়ে নানা ভাবে নানা নামে মকর সংক্রান্তি উৎসব পালিত হয়। আরাধনা করা হয় কোথাও লক্ষ্মীর, কোথাও বা সূর্যের, কোথাও বা পূজিত হন সরস্বতী। কিন্তু পূজা বা প্রসাদের উপকরণ মূলত এক – নতুন ফসল। পশ্চিমবঙ্গে এই উৎসব পৌষ সংক্রান্তি, পৌষপার্বণ বা নবান্ন নামে পরিচিত। বাঙালির কাছে এই উৎসব মূলত নতুন ফসলের। গ্রামবাংলার ঘরে ঘরে ওঠে নতুন ধান, নতুন অন্ন। তাই এই উৎসব বাঙালির কাছে ‘নবান্ন’। পৌষ সংক্রান্তি শস্যোৎসব। খেতের পাকা ধান প্রথম ঘরে ওঠা উপলক্ষে পালিত হয় এই উৎসব। পাকা ধানের শিস এনে নির্দিষ্ট কিছু আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হয়। দু’-তিনটি খড় এক সঙ্গে লম্বা করে পাকিয়ে তার সঙ্গে ধানের শিস, মুলোর ফুল, সরষে ফুল, আমপাতা ইত্যাদি বেঁধে ‘আউনি বাউনি’ তৈরি করা হয়। এই ‘আউনি বাউনি’ ধানের গোলা, খড়ের চাল, ঢেঁকি, বাক্স-প্যাঁটরায় গুঁজে দেওয়া হয়। বাংলায় পৌষ পার্বণের প্রধান অঙ্গ হল পিঠে খাওয়া।এই সময়ে নতুন ধানের পাশাপাশি বাংলার গ্রামে গ্রামে খেজুর গাছে রস আসে, তৈরি হয় নতুন গুড়, খেজুর গুড়। তাই নতুন চালের গুঁড়ো, নতুন গুড়, নারকেল আর দুধ দিয়ে তৈরি করা হয় নানা ধরনের পিঠে। তাই পৌষ পার্বণের আরেক নাম পিঠে পার্বণ। পৌষ মাসের শেষ দিনে আয়োজন করা হয় এই উৎসবের। শুধু গ্রামে নয় শহরেরও অনেক ঘরে ঘরে এই উৎসব পালন করা হয়। জ্যোতির্বিদ্যা অনুযায়ী দশম ঘর অর্থাৎ মকরের ঘরে সূর্যের প্রবেশকে বলে মকর সংক্রান্তি। মহাকাশে এই পরিবর্তনের ফলে পৃথিবীতে বড় ও উষ্ণ দিনের সূচনা হয়। সূর্যের বেশিক্ষণ অবস্থান ফসল পাকার জন্য জরুরি। এ সময় দেশ জুড়ে কৃষি উৎসব নবান্ন পালিত হয়। দেশের অন্যতম বড় উৎসব এই মকর সংক্রান্তি। এই দিন থেকেই সূর্যের উত্তরায়ণ শুরু এবং শীত বিদায়ের প্রস্তুতি নেয়। এবার তিথি অনুযায়ী পুণ্যস্নানের সময় পড়েছে সোমবার সন্ধ্যা থেকে মঙ্গলবার ভোর পর্যন্ত। তবে আজ ভোর থেকেই গঙ্গার ঘাটে ঘাটে মোক্ষ লাভের আশায় পুণ্যস্নান সারতে শুরু করেছেন ধর্মপ্রাণ হিন্দুরা। হরিদ্বার, বারাণসী, ত্রিবেণী সঙ্গম প্রয়াগরাজ, পাটনা এবং সাগরসঙ্গম গঙ্গাসাগর, সর্বত্র চলছে পূণ্য স্নান। মকর সংক্রান্তি উপলক্ষ্যে উত্তর এবং পশ্চিম ভারতের বিভিন্ন রাজ্যে ঘুড়ি উৎসবও পালিত হয়। অসমে বিহু, পশ্চিমবঙ্গে নবান্নের গান, তামিলনাড়ুতে নৌকাবাইচ প্রতিযোগিতা। এই সবের মাধ্যমে উৎসবে মেতে ওঠে দেশবাসী।
Latest article
পথ নিরাপত্তা সপ্তাহে দুর্গাপুরে ট্রাফিক গার্ডের বাইক র্যালি
ডেটলাইন দুর্গাপুর,৩ আগস্টঃ পথ নিরাপত্তা নিয়ে সারা বছরই পথচারী ও গাড়ি চালকদের সচেতন করার লক্ষ্যে বিভিন্ন ধরনের কর্মসূচী পালন করে থাকে আসানসোল...
চিত্র সাংবাদিক দীপক গুরুংয়ের স্মৃতিতে স্বেচ্ছা রক্তদান শিবির
নিজস্ব সংবাদদাতা, দুর্গাপুরঃ ২০১৩ সালের ৩১ জুলাই দুর্গাপুরের ডিভিসি মোড়ে এক মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনায় অকালে প্রাণ হারান দুর্গাপুরের মিডিয়া জগতের বিশিষ্ট চিত্র...
মন্ত্রীদের উপস্থিতিতে দুর্গাপুরে অনুষ্ঠিত হল ইন্ডাস্ট্রিয়াল বিজনেস মিট
ডেটলাইন দুর্গাপুর,৩০ জুলাইঃ গত ৪ মে রাজ্যে পালা বদলের পর থেকেই বাংলাকে পুনরায় শিল্প সমৃদ্ধ করে তোলার বিশেষ জোর দিয়ে চলেছেন মুখ্যমন্ত্রী...














