ডেটলাইন দুর্গাপুর: ভিক্ষাবৃত্তির জীবন ছেড়ে সমাজের মূল স্রোতে ফিরে আসুক পরবর্তী প্রজন্ম। শিশুরা শিক্ষার আলোয় আলোকিত হয়ে গড়ে তুলুক সুন্দর ভবিষ্যৎ। এই বার্তাই দিলেন কোক ওভেন থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক অঞ্জন মণ্ডল। শুধু আর্থিক সাহায্য নয়, শিক্ষা ও সচেতনতার মাধ্যমে দুঃস্থ পরিবারগুলিকে স্বনির্ভর জীবনের পথে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানালেন তিনি। দুর্গাপুর স্টেশন চত্বরে দুঃস্থ ও ভিক্ষাবৃত্তির সঙ্গে যুক্ত মানুষদের মুখে হাসি ফোটাতে এগিয়ে এল ‘ভালোবাসার ভিখারি’ নামে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন। সংগঠনের পক্ষ থেকে শিল্পী পাল নতুন বস্ত্র নিয়ে তাঁদের পাশে দাঁড়ান। জিআরপি এবং কোক ওভেন থানার পুলিশের সহযোগিতায় এদিন স্টেশন চত্বরে তৈরি হয় এক উৎসবমুখর পরিবেশ। দুঃস্থ মানুষদের হাতে নতুন বস্ত্র তুলে দেওয়ার পাশাপাশি তাঁদের সঙ্গে সময় কাটিয়ে মানবিকতার বার্তা দেন সংগঠনের সদস্যরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন কোক ওভেন থানার ভারপ্রাপ্ত আধিকারিক অঞ্জন মণ্ডল। তিনি দুঃস্থ পরিবারগুলির অভিভাবকদের উদ্দেশে বলেন, অতীতের জীবনযাত্রার পুনরাবৃত্তি যেন তাঁদের সন্তানদের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারের দিকে ঠেলে না দেয়। সন্তানদের ভিক্ষাবৃত্তির পথ থেকে সরিয়ে এনে শিক্ষার সঙ্গে যুক্ত করার জন্য অভিভাবকদের কাছে আবেদন জানান তিনি।
অঞ্জন মণ্ডল বলেন, শিক্ষাই পারে একটি শিশুকে তার বর্তমান পরিস্থিতি থেকে বের করে এনে সমাজের মূল স্রোতে ফিরিয়ে আনতে। পশ্চিমবঙ্গ সরকার সরকারি বিদ্যালয়ে পড়াশোনার পাশাপাশি পড়ুয়াদের জন্য বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ও সহায়তার ব্যবস্থা করেছে। তাই সন্তানদের স্কুলে পাঠিয়ে শিক্ষিত করে তোলার জন্য অভিভাবকদের এগিয়ে আসতে হবে।

পাশাপাশি, সমস্ত ধরনের নেশা থেকে দূরে থাকার জন্যও তিনি সকলকে আহ্বান জানান। তাঁর বক্তব্য, শিশুদের সঠিক শিক্ষা ও সুস্থ পরিবেশে বড় করে তুলতে পারলে শুধু তাদের ভবিষ্যৎই বদলাবে না, বদলে যেতে পারে পরিবারের সামগ্রিক জীবনযাত্রাও। ‘ভালোবাসার ভিখারি’ সংগঠনের এই উদ্যোগে নতুন বস্ত্র বিতরণের পাশাপাশি উঠে এল সামাজিক দায়বদ্ধতা, মানবিকতা ও সচেতনতার বার্তা। পুলিশের সহযোগিতা এবং স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের এই উদ্যোগ সমাজের পিছিয়ে পড়া মানুষদের নতুন করে বাঁচার স্বপ্ন দেখানোর পাশাপাশি তাঁদের সন্তানদের উজ্জ্বল ভবিষ্যৎ গড়ার পথও দেখাল।














