ডেটলাইন আসানসোলঃ রঙের উৎসব দোল উৎসবে বা হোলি। কিন্ত,পশ্চিম বর্ধমান জেলায় এমনও এলাকা আছে,যেখানে রং ছাড়াই পালিত হয় দোল তথা বসন্ত উৎসব। হ্যাঁ,রঙ ও আবিরের বদলে সেখানে জল এবং ফুলের রেনু দিয়ে দোল খেলা হয়। তবে,এই জল ও ফুলের রেনু বিশেষ পদ্ধতিতে ব্যবহার করা হয়। মূলতঃ আদিবাসী সম্প্রদায়ের মধ্যে এভাবে দোল খেলার প্রচলন রয়েছে। যদিও তারা বলে সাধারন দোল বা হোলির সঙ্গে তাদের এই উৎসবের কোনো সম্পর্ক নেই। তাদের এই উৎসব বহু প্রাচীনকাল থেকে হয়ে আসছে। এটাকে তারা বাহা উৎসব বলে। বসন্তকালেই আদিবাসীরা এই উৎসবে মেতে ওঠে। পশ্চিম বর্ধমান জেলায় এই উৎসব দেখা যায় আসানসোল পুরসভার ৯৮ নম্বর ওয়ার্ডে হাড়মাড়ডি রাঙাপাড়া আদিবাসী গ্রামে। এই গ্রামে প্রাকৃতিক উপায়ে জল এবং ফুলের রেনু দিয়ে দোল খেলা হয়। গোটা গ্রাম ফুল ও মালায় সাজিয়ে তোলা হয়। নাচে গানে তারা বাহা উৎসব পালন করে। গ্রামের পুরুষরা শাল গাছের রেনু তুলে নিয়ে আসে জঙ্গল থেকে। সেই রেনু দিয়ে ঠাকুরের পুজো করা হয়। পরে সেই রেনু জলে ভিজিয়ে রাখা হয়। শেষ দিনে ধামসা মাদলের তালে তালে নাচে গানে সেই জল দিয়ে বাহা উৎসব পালিত হয়।

এই জল শ্রদ্ধার সাথে একে অপরের মাথায় দেয়। আসলে জল,জঙ্গল, পাহাড় নিয়েই আদিবাসীদের জীবন। তাই,তাদের উৎসবেও জড়িয়ে থাকে প্রকৃতি। এই উৎসব মূলত তিনদিনের। প্রথম দিন গ্রামের একটা জায়গায় গিয়ে ঠাকুরের স্থান তৈরি করা হয়। পাশাপাশি ওই দিন বাড়ির পুরুষেরা জঙ্গলে গিয়ে শালফুলের রেণু সংগ্রহ করে নিয়ে আসে। সেগুলি বাড়িতে এনে শুদ্ধ জলে ডুবিয়ে রাখা হয়। দ্বিতীয় দিনে সেই জল নিয়ে যাওয়া হয় ওই ঠাকুরের স্থানে। সেখানে পুজো হয়। এরপর ধর্মীয় গুরু এই শুদ্ধ জলকে প্রতি বাড়িতে দিয়ে আসেন। তৃতীয় তথা শেষ দিন সেই জল নিয়েই খেলা হয়। এটা পুরোপুরি আদিবাসীদের নিজস্ব একটি উৎসব। যার নাম বাহা উৎসব।














