মানুষের পাশে থেকেই সেবার কাজ করে চলেছে প্রেরনা সোসাইটি

0
167

সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ মানুষ মানুষের জন্য – আমাদের সমাজে এই বার্তাটা বিভিন্নভাবে বিভিন্ন ক্ষেত্রে শোনা যায়। কিন্তু সেই বার্তার বাস্তব প্রয়োগ আমরা কি সর্বদা দেখতে পাই? আসলে প্রচার সর্বস্ব বর্তমান গতিশীল যুগে মানুষ নিজেকে নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকে তাই অন্যের পাশে দাঁড়ানোর সময় যেমন থাকে না,তেমনই থাকে না মানবিকতার স্বাভাবিক আবেগও। তবু ব্যতিক্রম কি নেই? নিশ্চয় আছে। সেকারনেই বর্তমান এই স্বার্থপরতার যুগেও দুঃস্থ,অসহায় মানুষগুলি বেঁচে রয়েছে,সহযোগিতা পাচ্ছে। কোথাও দেখা যায় ব্যক্তিগতভাবে আবার কোথাও দেখা যায় সংগঠনের মাধ্যমে সমাজের অসহায় মানুষের পাশে থেকে তাদের সেবা করার কাজ চলছে। শহর দুর্গাপুরেও কয়েকটি সংস্থা রয়েছে,যারা প্রতিনিয়ত মানুষের পাশে থেকে কাজ করে চলেছে। যেমন প্রেরনা সোসাল ওয়েলফেয়ার সোসাইটি। এই সংস্থার পক্ষ থেকে প্রতিদিনই দুর্গাপুর কোক ওভেন থানা এলাকার স্টেশন রোড,বাস স্ট্যান্ড সহ বিভিন্ন এলাকায় গরীব অসহায় ব্যক্তিদের খাবার দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়। এমনকি,রাস্তার পাশে পড়ে থাকা কোনো অসহায় অসুস্থ মানুষকে দেখতে পেলে তাকে রাস্তা থেকে তুলে হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে চিকিৎসার ব্যবস্থাও করা হয়। দারিদ্রতার কারনে শতছিন্ন পোষাক পড়ে থাকা মানসিক ভারসাম্য মানুষের দেখা পেলে তাঁকে পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করার এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা করার কাজও করে প্রেরণার কর্ণধার সমাজসেবী সৌরভ আইচ,সংস্থার সোমা দাস এবং তাদের অন্যান্য সদস্য সদস্যরাও।

যেমন দেখা গেল রবিরার সন্ধ্যায় ফিলিপস কার্বন ব্ল্যাক লিমিটেডের রাস্তার ধারে পড়ে থাকা মানসিক ভারসাম্যহীন এক অসহায় মানুষকে তারা পুলিশের সাহায্য নিয়ে বিধাননগরের মহকুমা হাসপাতালে পাঠায়। সংগঠনের কর্ণধার সৌরভ আইচ জানান,প্রতিদিনকার মতোই রবিবার সন্ধ্যের দিকে সংগঠনের সম্পাদিকা সোমা দাস কে সঙ্গে নিয়ে রাস্তার থাকা গরীব মানুষদের কিছু খাবার দিতে বের হয়েছিলাম। সেই সময় পিসিবিএল রোডে রাস্তার মাঝখানে এক প্রভুজি (অসহায় ব্যক্তি) কে দেখতে পাই।  দেখেই বোঝা যাচ্ছিল ওনার খুব কষ্ট হচ্ছিল। মানসিক ভারসাম্যহীন মানুষ টাকে প্রথমে আমরা কিছু খাবার দি। তারপর ফোন কোক ওক্ষেন থানায় ফোন করে ডিউটি অফিসার দেবাশীষ সিংহ রায় কে বিষয়টি জানাই। অল্প সময়ের মধ্যেই তিনি সমীর মাজি নামে এক অফিসারকে সেখানে পাঠিয়ে দেন এবং পুলিশের সহযোগিতায় ওই অসহায় মানুষটিকে বিধাননগরে মহকুমা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য পাঠিয়ে দেওয়া হয়। পুলিশের এই তৎপরতা ও মানবিকতাকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন সমাজসেবী সৌরভ আইচ।

তিনি আরও জানান,পুলিশের সহযোগিতা না থাকলে তিনি এবং তার সংগঠনের পক্ষে প্রতিনিয়িত এভাবে মানুষের পাশে থেকে মানুষের সেবার কাজ করা সম্ভব হতো না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here