সংবাদদাতা,দুর্গাপুরঃ নিজেকে পাড়ার ছেলে বলতেই ভালবাসেন। সিটি সেন্টারে চতুরঙ্গ ময়দানের কাছে নন কোম্পানি হাউসিং অ্যাসোসিয়েশনের পাশে মিলিত হলেন দুর্গাপুর পশ্চিম বিধানসভা কেন্দ্রের তৃণমূল প্রার্থী কবি দত্ত। স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া সংবর্ধনা সভায় তিনি বললেন,এখানে রাজনৈতিক সভা করতে আসিনি। তারও বাড়ি এই নন কোম্পানিতেই। তিনি এসেছেন এখানকার বাসিন্দা ও পাড়ার ছেলে হয়ে। তৃণমূল নেতা উজ্জ্বল মুখার্জি বলেন,পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী বিধান নগর সরকারি হাসপাতালে উন্নতির জন্য যে রোগী কল্যাণ সমিতি তৈরি করেছিলেন তার প্রধান দায়িত্ব দেন কবি দত্তকে। মাত্র দু বছরে সরকারী ও বেসরকারী বিভিন্ন সহায়তায় এই সরকারি হাসপাতালটিতে রোগীদের পরিষেবার প্রচুর উন্নতি হয়েছে। তিনি আশা করেন দুর্গাপুরের উন্নতিতে এডিডিএ-র প্রাক্তন চেয়ারম্যান কবি দত্ত নিরলস প্রয়াস চালিয়ে যাবেন। কবি দত্ত বলেন,ভোটের প্রচারে নয়,এখানকার বাসিন্দাদের সঙ্গে তার যে দীর্ঘদিনের নিবিড় সম্পর্ক তারই ফলশ্রুতি হিসেবে। তিনি বলেন, ১২ লক্ষ মানুষের এই শহরের সিটি সেন্টার,বিধাননগরসহ বিভিন্ন এলাকায় দিন দিন নিঃসঙ্গ বয়স্ক মানুষদের সংখ্যা বাড়ছে। অনেকের ছেলেমেয়েরা চাকরী সূত্রে বাইরে থাকে। ফলে এইসব এলাকার যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বরিষ্ঠ মানুষদের সহায়তার জন্য এখানকার মানুষদের এগিয়ে আসতে হবে।

তিনি এলাকার সার্বিক কল্যাণে একটা ভিশন নিয়ে এগোতে চান। এডিডিএর চেয়ারম্যান হিসেবে তিনি দুর্গাপুরের সৌন্দর্যায়নে এখানকার রাস্তাঘাটের সংস্কার করা ছাড়াও পথবাতির ব্যবস্থা করেছেন। রাস্তা প্রসার করতে গিয়ে তাকে বেআইনিভাবে এডিটি এর জমি ও রাস্তা রাস্তা দখল করা হকারদের উচ্ছেদ করতে হয়েছে। একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হল-বেআইনি দোকানপাট ও যত্রতত্র দ্বিচক্রযান রাখবার জন্য সিটি সেন্টারের ব্যস্ত এলাকায় পথ চলাচলে সমস্যা হতো। রাস্তার সৌন্দর্যায়নে সেইসব বেআইনি দোকানপাট ও ঝুপড়ি অপসারণ করেন তখন তাদের মধ্যে অনেকেই বলেন এই উচ্ছেদ সম্পূর্ণ অবাঞ্চিত। এদিকে চেয়ারম্যান থাকাকালীন তিনি লক্ষ্য করেছেন শহর দুর্গাপুরের একটা বিরাট সমস্যা এখানকার পয়ঃপ্রণালীর সমস্যা। শহরের বিভিন্ন এলাকায় নর্দমাগুলি বহু পুরানো হয়ে গেছে। একটু বৃষ্টি হলেই শহরের নীচু জায়গা গুলো জলমগ্ন হয়। এই সমস্যার সমাধানে এতদিন কেউ তেমনভাবে এগিয়ে আসেননি। তিনি বলেন, এই শহরের লাইফ লাইনকে বাঁচাতে আরো পনেরো বছর আগে এদিকে দৃষ্টি দেওয়া উচিত ছিল। এই ভূগর্ভস্থ লাইফ লাইনটিকে বাঁচাতে প্রায় ২৫০ কোটি টাকা খরচ হবে। তিনি আরো বলেন, ইন্টার স্টেট বাস টার্মিনাস করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে যা অনেক আগে নেওয়া উচিত ছিল। এই শহর আমাদের সবার এই শহরকে বাঁচাতে হবে। প্রান্তিকা পুলিশ ফাঁড়ির কাছে মদ গাজার ঠেক। কুড়ি বছর ধরে এ সমস্যা চলছে কিন্তু সমাধান করা যায়নি। বার লাখ মানুষের শহর দুর্গাপুর শুধু পরস্পরের বিরুদ্ধে দোষারোপ করে চলেছে। এগুলি বন্ধ হওয়া উচিত। তিনি আবেদন করেছেন- আসুন আমরা সবাই হাতে হাত মিলিয়ে এই শহরটাকে বাঁচাই,শহরটার উন্নতি করি।














